লুয়াক কফি বা কপি লুয়াক কি ? এটি বিশ্বের সবথেকে দামি কফি কেন ?

 


কফি,  আমরা সবাই জানি কফি সম্পর্কে, খেয়েও থাকি প্রতি নিহত কমবেশি, কিন্তু আজকের আমাদের  বিষয় বিশ্বের সবথেকে দামি কফিকে নিয়ে ।

নাম : লুয়াক কফি

আচ্ছা, সবথেকে দামি। তাহলে স্বাভাবিকভাবেই সবার মনে প্রশ্ন আসবে,  তাহলে এই দামী কফির দাম টা ঠিক কত ?

উত্তর : প্রতি কেজির দাম ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা , হ্যাঁ আপনার হাতে যে স্মার্টফোনটি রয়েছে তার থেকেও হয়তো বেশি দাম এই কফিটির।

এবার আসা যাক এই বিশেষ কফির বিশেষত্ব,       লুয়াক , ভাম বিড়াল গোছের একটি প্রাণী, তার মহল থেকেই তৈরি হয় বিশ্বের সবথেকে দামি কফি।  আর এই কফিই লুয়াক কফি নামে পরিচিত সারা বিশ্ব। অদ্ভুত পদ্ধতিতে তৈরি হওয়ায় তা বিশ্বের সবচেয়ে দামী কফির তকমা পেয়েছে।

প্রথমেই প্রাণীটির সামনে পরিবেশন করা হয় বহু কফি বিন। তার মধ্যে থেকে সবথেকে ভালো মানের কফি বিন গুলিকে পছন্দ করে খায় সেই প্রাণীটি। কিন্তু প্রাণীটি হজম করতে পারে না ওই কফি বিন গুলিকে। মল আকারে বার করে দেয় , আর সেখান থেকেই তৈরি হয় বিশ্বের সবথেকে দামি লুয়াক কফি।

এই লুয়াক কফির মধ্যপ্রাচ্য এবং ইউরোপীয় দেশে সব থেকে বেশি চল রয়েছে । তবে ভারতের কর্ণাটকের পাহাড়ি এলাকা কুর্গে 'কুর্গ কনসোলিডেটেড কমোডিটিস' নামে স্টার্ট-আপ ফার্ম তৈরি করে এই লাক্সারি কফি বানানো চলছে। খুব ছোট আকারে শুরু করে তা ধীরে ধীরে বড় আকার নিচ্ছে। প্রথম বছরে মাত্র ২০ কেজি কফি তৈরি হয়েছিল। তারপরে ৬০ কেজি ও গতবছরে ২০০ কেজি কফি উৎপাদিত হয়েছে। এবং অন্তত ৫০০ কেজি এই বিলালবহুল কফি উৎপাদিত হবে বলে আশা সংস্থার অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা নরেন্দ্র হেব্বারের।


সাধারণ সাধারণ কফিতে থাকে এক ধরনের এসিডিক পদার্থ যা এই লুয়াক কফিতে থাকেনা , কারণ কফি বিন গুলো যখন প্রাণীর পেটের মধ্যে থাকে তখন তার ডাইজেস্টিভ সিস্টেম কফিটি থেকে অ্যাসিটিক পদার্থ একেবারে আলাদা করে ফেলে। এর ফলে কফির স্বাদ বৃদ্ধি পায় , তার সাথে বৃদ্ধি পায় কফিটির গুন।

এই কফি বিশ্ব বিখ্যাত ব্যাংক গুলির মধ্যে অন্যতম হলো Cafes Granell যার 100 গ্রাম লুয়াক কফির মূল্য অ্যামাজনে রয়েছে ১১৯.৯৯ ডলার ।          আরও একটি বিখ্যাত আমেরিকান কম্পানি 'Belux Coffee' এই কফি বিভিন্ন দেশের রপ্তানি করে মুনাফা অর্জন করে ।

এই বিশেষ ধরনের কফি ঠিক কবে কিভাবে আবিষ্কৃত হয়েছিল তা নিয়ে দ্বন্দ্ব-বিবাদ লক্ষ্য করা যায় , তবে কফি লুওয়াকের উৎস ইন্দোনেশিয়ার কফি উৎপাদনের ইতিহাসের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে  ডাচ উপনিবেশবাদীরা ইন্দোনেশিয়ায় কফির বাগান স্থাপন করেছিল এবং ইয়েমেন থেকে বীজ আমদানি করে। উনিশ শতকে, সেন্ট্রাল জাভার কৃষকরা তাদের সংগৃহীত কফি বিন থেকে কফি তৈরি করতে এবং পান করতে শুরু করেছিলেন।

Post a Comment

أحدث أقدم